আমরা যখন আল্লাহর রাস্তায় বের হবো তখন আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরী বিষয় হলো নম্রতা অবলম্বন করা। সমস্ত মুসলমান সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখা। কাউকে ঘৃনা বা অবজ্ঞার চোখে না দেখা। রোগকে ঘৃনা করো রুগীকে নয়। রুগীতো কারো বাপ মা বা সন্তান হতে পারে।
উলামায়ে কেরাম সম্পর্কে দিল সাফ রাখা। তাদেরকে দিল থেকে মহব্বত করা কারণ তাঁরা নবীর ওয়ারিশ।
হুজুর (সঃ) যখন কোন জামাতকে বাইরে পাঠাতেন তখন মানুষের সাথে মহব্বত সৃষ্টি করতে বলতেন। কারণ মহব্বত সৃষ্টি না হলে দাওয়াতদাওয়াত গ্রহন করবে না।
খোদা না করুন যদি আমাদের দাওয়াতের কাজে কেউ বাধার সৃষ্টি করে বা অপমানকর ব্যবহার করে তখন আমরা আম্বীয়া (আঃ) গনের কষ্ট মোজাহাদার কথা স্মরণ করবো। এমন কোন নবী রাসুল ছিলেন না যাকে দ্বীনের খাতিরে কষ্ট মোজাহাদা করতে হয় নাই। নবী করিম (সঃ) স্বয়ং বলেছেন সত্যের দাওয়াতের খাতিরে আমাকে যত কষ্ট দেওয়া হয়েছে অন্য কোন নবীকে এত কষ্ট দেওয়া হয় নি। তারপরও নবীজি সবাইকে মাফ করে দিয়েছেন। কোন দিন প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করেন নি।
আল্লাহ তায়ালা মুসা এবং হারুন (আঃ) কে ফেরাউনের নিকট দাওয়াতের জন্য পাঠিয়ে বললেন, তোমরা উভয়ে তার সাথে নরম কথা বলিও, হতে পারে সে উপদেশ মেনে নিবে অথবা আযাবকে ভয় করবে।
আল্লাহ তায়ালাও নবীজিকে বলেছেন যার সারাংশ, হে নবী আপনার মেজাজ যদি নরম না হতো, সাথীরা আপনার থেকে পৃথক হয়ে যেত। প্রকৃত পক্ষে নরম মেজাজ দ্বারা যতটুকু উদ্দেশ্য পুরা হয় গরম মেজাজ দ্বারা তা হয় না।
আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে আল্লাহর সাহায্যের আশায় দিলকে সব সময় আল্লাহর দিকে রুজু রাখতে হবে।
দাওয়াতের আদব
যে জামাতের মধ্যে ৪ টা গুন থাকবে ঐ জামাত আল্লাহর মদদ পাবেঃ
সফরী হালতেও আল্লাহর হুকুম নষ্ট না করা।
সুন্নত তরীকা না ছাড়া।
আপোষে মহব্বত বজায় রাখা।
আমীরের এতায়াত করা।
আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে বার বার ১২ কামের মেজাকারা করা। বিশেষ করে দাওয়াত, তালিম, জিকির-এবাদত ও খেদমত এই চার আমলের কোন একটিতে সবসময় নিজেকে মশগুল রাখার চেষ্টা করা। গাফলত মানুষকে গুনাহের দিকে ধাবিত করে।
আল্লাহর রাস্তায় বের হবার সময় নিজের সমস্ত খরচ যথা- খানা-পিনা, ভাড়া ইত্যাদি যথা সম্ভব নিজে বহন করবে। আর সম্ভব হলে গরীব সাথীদের উপরও খরচ করবে।
এই উম্মতের প্রথম সফরটাই ছিল নিজের জান নিজের মাল। অর্থাৎ হিজরতের সময় আবু বকর (রাঃ) নবীজিকে উট হাদীয়া দিয়েছিলেন। কিন্তু নবীজি হাদীয়া না নিয়ে ধার হিসাবে নিয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকে উলামায়ে কেরাম বলেন ধার করে সফর করা সুন্নত।
সফরী হালতে রাজনৈতিক আলোচনা, মতবিরোধ পূর্ণ আলোচনা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দোষের কথা এবং বর্তমান হালতের আলোচনা থেকে বিরত থাকা। আর এমন কোন কাজ না করা যাতে অন্যের কষ্ট হয়।
মোট কথা আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে যখন আমরা সবর ও নম্রতাকে অবলম্বন করে বড়দের বাতানো তরতীব অনুযায়ী চলতে থাকবো তখন আমাদের এই সফর হেদায়েতের জন্য জড়িয়া বা সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।